২০২৬ এ ফেসবুক থেকে ইনকাম করার সেরা ২০ টি উপায় – জেনে নিন, বুঝে নিন আর ফেসবুক থেকে আয় করা শুরু করে দিন। Facebook Earning Tips 2026
ফেসবুক এখন আর শুধু বন্ধু বানধব আত্নীয় স্বজনদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জায়গাতেই সিমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সর্বস্তরের মানুষের জন্য আয়ের অন্যতম শক্তিশালী প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আপনি যদি সঠিক কৌশল জানেন তবে, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি দিয়েই বিভিন্ন উপায়ে ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম (Earn Money with Facebook in 2026) শুরু করতে পারেন। HistoryBD.com এর আজকের পোষ্টে ফেসবুক থেকে ইনকাম করার ২০টি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেয়ার করবো ইংশাআল্লাহ। Top 20 Facebook Earning Tips 2026 |
বর্তমান সময়ে ফেসবুকে আয়ের কথা বললেই সকলেই মনে করে যে ভিডিও দেওয়া আর এ্যাডস চালু করা বা মনেটাইজেশন পাওয়া হলেই ইনকাম শুরু। সত্যি কথা বলতে এর বাইরেও যে একাধিক উপায় রয়েছে সেটা হয়ত অনেকেই জানে না, আবার জানলেও হয়ত অল্প কিছু। যাহোক যে সকল ভাই ও বোনেরা অনলাইন ইনকাম করা পছন্দ করেন বিশেষ করে ফেসবুক থেকে আয় করা পছন্দ করেন তাদের জন্য আজকের ২০ টি সেরা ও সহজ উপায় নিচে তালিকাবদ্ধ করলাম। মনোযোগ সহকারে পড়ে দেখুন এবং ভাবুন যে আপনার জন্য কোন পদ্ধটিটি সহজ হবে। ব্যস, এরপর আর দেরী না করে সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করে দিলেই হবে।
১. ইনস্ট্রিম অ্যাডস (ভিডিও মনিটাইজেশন):
প্রথম পদ্ধতী আমাদের সকলের কাছে একেবারেই কমন, অর্থাৎ ভিডিও আপলোড। হ্যা, যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি, ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও ভিডিও আপলোড করে আয় করা যায়। ইউটিউবের মত ফেসবুকেরও কিছু নিজস্ব রুলস আছে। আপনার পেজে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার এবং ওয়াচ টাইম পূর্ণ হলেই ভিডিওর মাঝে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আপনি টাকা আয় করা শুরু করতে পারবেন। কিভাবে ভিডিও বানাবেন, কিভাবে ভিডিও আপলোড করবেন এসকল বিষয় নিয়ে ইউটিউবে অনেক ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন, একটু খানি সার্চ করে দেখে নিবেন।
২. ফেসবুক রিলস (Facebook Reels) বা শর্ট ভিডিও:
একটা সময় আমরা অনেক এন্ড্রয়েড এপ পেয়েছি শর্ট ভিডিও আপলোডের জন্য বা দেখে মজা নেবার জন্য। সেই সকল এপের অধিকাংশই বর্তমানে নেই বললেই চলে শুধু টিকটক ছাড়া। তবে এখন আপনি ফেসবুকেও শর্ট ভিডিও প্রকাশ করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারেন। বর্তমানে ফেসবুকের ছোট ভিডিও বা রিলস (Facebook Reels) সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। কারণ অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ অনেক ধরনের বিনোদন নিতে পারে Facebook Shorts Video দেখে। ফেসবুক এখন রিলস ক্রিয়েটরদের জন্য Reels Play Bonus এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে। ঘটনাত্রমে একবার যদি আপনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় তবে সেই রিলস থেকে আরও মোটা অংকের টাকা আয় হতে পারে।
৩. ফেসবুকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing):
সারা বিশ্বে অনলাইন ইনকামের ক্ষেত্রে এফিলিয়েট ইনকাম (Affiliate Income) বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই পরিচিত সাবজেক্ট। যদিও একেক প্লাটফর্মে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Earn Money with Affiliate) পদ্ধতী একেকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফেসবুকের ক্ষেত্রে আপনার যদি বড় কোন ফেসবুক পেজ (Facebook Page) বা ফেসবুক গ্রুপ (Facebook Group) থাকে, তবে সেখানে বিভিন্ন ই কমার্স সাইটের পণ্যের বিবরণ ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করে প্রডাক্টটির এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে পারেন। এরপর বিস্তারিত জেনে কেউ যদি আপনার দেওয়া লিংক থেকে পণ্য ক্রয় করে তবে আপনার নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন আয় হবে।
৪. নিজস্ব পণ্যের ব্যবসা (F-Commerce):
ই কমার্স বিজনেস (E-Commerce) এর ভিত্তি এখন পুরনো কথা তাই কমবেশী সকলেই এ বিষয়ে বেশ ধারনা রাখি। কিন্ত ফেসবুকে যদি আপনি ই কমার্স বা অনলাইন বেচাঁ কেনা করে তবে সেটিকে বলা হয় এফ কমার্স (F Commerce)। অর্থাৎ আপনার কাছে যদি অর্থ বা পুজিঁ থাকে বা কোন প্রডাক্ট থাকে তবে ফেসবুককে আপনি একটি দোকান হিসাবে ব্যবহার করে ব্যবসা করতে পারেন। ফেসবুক কে অনলাইন দোকান হিসেবে ব্যবহার করা এখন সবথেকে জনপ্রিয় মাধ্যম। আপনি নিজের তৈরি পোশাক, খাবার বা যেকোনো পণ্য ফেসবুক পেজে বা ষ্টোর তৈরী করা ও প্রচার করার মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন আর টাকা গুনতে পারেন।
৫. ফেসবুক গ্রুপ মনিটাইজেশন (Brand Promotion) :
আপনার কাছে যদি একটি সক্রিয় এবং ভাল অডিয়েন্সের ফেসবুক গ্রুপ থাকে সেক্ষেত্রে আপনি আপনার জনপ্রিয়তা ও ফ্যান ফলোয়ারসদেরকে কাজে লাগিয়েও ফেসবুক টাকা আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি করে প্রতি পোষ্টের বিনিময়ে আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ফলোয়ারস যদি মিডিয়াম লেভেলের হয় তবে শুরুর দিকে আপনাকেই কষ্ট করে ব্রান্ড বা প্রতিষ্ঠান খুজেঁ বের করতে হবে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করে চুক্তি করতে হবে। একটা কথা মাথায় রাখবেন, একদিনে সব হয় না আর অটোমেটিক ও সব হয়না, শুরুতে সবাইকেই কষ্ট করতে হয়। তাই হাল ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন।
৬. ব্র্যান্ড সাপোর্ট (Sponsorship):
কাজ করতে করতে একটা সময় যখন আপনার পেজে ভালো ফলোয়ার থাকবে। আপনি একটি পোস্ট শেয়ার করলেই লোকজন হুমড়ী খেয়ে পড়ছে। আপনি একটি ভিডিও দিলেই সেই মাপের ভিউ হচ্ছে বা ভাইরালের মত হয়ে যায় বুঝে নিবেন আপনার কাছেই আপনার প্রমোশনের সময় এসে গেছে। এই পরিস্থিতীতে আপনাকে আর কাওকে খুজঁতে হবে না। বড় বড় ব্রান্ড বা কোম্পানী আপনাকে খুজেঁ নিবে টাকার বিনিময়ে তাদের প্রচার বা পোস্ট করার জন্য। বা কোন প্রডাক্ট কে রিভিউ করে ভিডিও বানানোর জন্য। একবার এই স্তরে পৌছে যাবার পর টাকা ও জনপ্রিয়তা আপনা আপনি আপনার কাছে ধরা দিবে।
৭. ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস (Skill Sharing):
আপনি যদি কোন বিশেষ বিষয়ের উপড় অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন বা আপনার সার্ভিস দেবার মত যোগ্যতা থাকে তবে আপনি ফেসবুকের মাধ্যমেও আপনার সার্ভিস বা স্কিল সেল করতে পারবেন। টাইম টু টাইম এখন আর অফিসে না গেলেও আপনার চলবে। ফেসবুকের মাধ্যমেই কাস্টমার খুজেঁ নিতে পারবেন। আরেকটু বুঝিয়ে বলি, ধরুন আপনি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার অথবা ভিডিও এডিটিং করতে পারেন বা সুন্দর ব্লগ পোস্ট লিখতে পারেন। এবারে আপনি আপনার যোগ্যতাকে এবং অভিজ্ঞতার স্যাম্পলকে ফেসবুকে পোস্ট করে রাখেন। বন্ধু বানাতে থাকেন, প্রচার বাড়তে বাড়তে দেখবেন আপনি ফেসবুক থেকেই সরাসারি কাজের অর্ডার পেয়ে গেছেন।
৮. ফেসবুক পেজ সেটআপ ও ম্যানেজমেন্ট (Facebook Page Setup):
অনেকেই নিজের ব্যবসার পরিধি ও পরিচিতি বাড়ানোর জন্য নিজস্ব ব্রান্ড বা কোম্পানীর নামে একটি দারুন ফেসবুক পেজ খুলতে চান কিন্তু প্রফেশনাল সেটআপ বোঝেন না। ইমেজ বা কভার ডিজাইন এগুলি কিছুই বোঝেন না। তখন আপনি তাদেরকে ফেসবুক পেজ বা ব্রান্ড পেজ তৈরী করতে চুক্তির বিনিময়ে সাহায্য করতে পারেন। পাশাপাশি আপনি চাইলে অনলাইনে বসেই মাসিক কন্টাকে তাদের পেজের দেখাশুনা ও আপডেট করেও প্রতিমাসে টাকা আয় করতে পারেন।
৯. স্টারস বিক্রয় (Facebook Stars):
বিভিন্ন লাইভ স্ট্রিমিং করার সময় দর্শকরা খুশি হয়ে মাঝে মাঝে আপনাকে ফেসবুক স্টার (Facebook Star) গিফট করতে পারে। এই স্টারগুলো পরবর্তী সময়ে আপনি চাইলে ডলারে কনভার্ট করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পকেটে আসল টাকা নিয়ে আসতে পারেন। বিশেষ করে যারা গেমার আছেন বা ভাল বিনোদন মূলক লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারেন তাদের ফেসবুক থেকে আয়ের এটিও একটি দারুণ সুযোগ।
১০. কন্টেন্ট রাইটিং ও ট্রাফিক জেনারেশন (Making Visitors):
আপনি যদি অনেকদিন ধরে ফেসবুক চালিয়ে থাকেন তবে নিশ্চয় ফেসবুকে আপনার একটা দারুন মাত্রার বন্ধু বান্ধব বা ফলোয়ারস তৈরী হয়েছে। মনে রাখবেন আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা প্রতিটি লোকই আপনার একেকটা শক্তিশালী ট্রাফিক বা ভিজিটর। ফেসবুকে বড় বড় আর্টিকেলের মাধ্যমে মানুষকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। এতে আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট আরও শক্তিশালী হবে। তাদের নিকট বিশ্বস্ত হয়ে উঠবেন। পরবর্তীতে সেই ট্রাফিককে আপনি আপনার নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে গুগল এডসেন্স (Google AdSense) বা অন্যন্য এডভারটাইজের মাধ্যমে ইনকাম করে নিবেন।
১১. অনলাইন কোর্স বিক্রি (Selling Courses):
আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হন (যেমন: রান্না, ইংরেজি শেখা, বা কোডিং), তবে সেই বিষয়ের ওপর কিছু স্যাম্পল বা উপকারী ভিডিও বানিয়ে প্রথমে ফেসবুকে আপলোড করবেন। এরপর সেই বিষয়ের উপড় একটি পূর্ণাঙ্গ এবং এডভান্স কোর্স তৈরী করে ফেসবুকের সবাইকে জানাবেন। কেন আপনার সেই প্রিমিয়াম কোর্সটি সকলের গ্রহন করা উচিৎ সে বিষয়েও ভিডিও বানাবেন এবং ফেসবুক পোস্ট দিবেন। এক্ষেত্রে চাইলে ফেসবুক অ্যাড (Facebook Ads) এর মাধ্যমেও প্রচার করতে পরেন। এরপর সেই স্কিল বা কোর্স বিক্রি করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ফেসবুকে যদি একটু সার্চ করেন দেখবেন বহু লোকেরা তাদের কোর্স বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পর্যন্ত এই ফেসবুক থেকে ইনকাম করে নিচ্ছে।
১২. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি (Digital Product Sell):
আপনি হয়ত ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার শুনেছেন ডিজিটাল মার্কেটিং। মূলত অফলাইনে ফিজিক্যাল দোকান বা প্রোডাক্টের বদলে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। এক্ষেত্রে ইনস্টান্ট সার্ভিস ও পেমেন্ট গ্রহন করা যায়। ডিজিটাল প্রডাক্ট যেমন ই বুক, ফটোগ্রাফি প্রিসেট, গ্রাফিকস টেম্পলেট, ই লার্নিং, জরুরী নোটস, ফ্রি ফায়ার ডায়ামন্ড, নেটফ্লিক্স বা অন্যন্য সাবস্ক্রিপশান বিকাশ বা নগদ টাকার বিনিময়ে সার্ভিস। আরও অনেক ধরনের ডিজিটাল প্রডাক্ট আপনি ফেসবুকে বসে অনলাইনে সেল করে টাকা পকেটে নিতে পারবনে। ডিজিটাল প্রডাক্ট সেলে ডেলিভারী বা কুরিয়ার বা প্যাকিং করার কোন ঝামেলা নেই। তাই এই বিষয়টি বর্তমানে অনেকের কাছেই অনেক জনপ্রিয়।
১৩. সাবস্ক্রিপশন মডেল (Fan Subscriptions):
আপনার কাছে বিশেষ কোন সার্ভিস প্লান থাকে অথবা আপনার পেজে ইউজার রা নির্দিষ্ট কোন প্রিমিয়াম কন্টেন্ট সেবা পেয়ে থাকে। এবং তারা আপনার সাথে থাকতে চায় তবে আপনি আপনার পেজকে প্রাইভেট করে সাবস্ক্রিপশান সেল করতে পারেন। মাসিক বা বাৎসরিক একটা পেমেন্ট নেবার মাধ্যমে আপনি তাদের কে আপনার ভিআইপি গ্রুপের মেম্বারশীপ দিলেন। এভাবেও আপনি চাইলে ফেসবুক থেকে আর্নি করতে পারেন।
১৪. গেমিং ভিডিও ক্রিয়েটর (Gaming Stream):
আপনি যদি গেম খেলতে ভালোবাসেন বা প্রো লেভেল গেমার হয়ে থাকেন তবে ফেসবুক গেমিং প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম করেও বাড়তী টাকা আয় করতে পারেন। ফেসবুক স্টার পাওয়া সহ গেমারদের জন্য বিশেষ একটি পার্টনার প্রোগ্রাম এবং লেভেল আপ প্রোগ্রাম রয়েছে। যা গেমারদের জন্য বাড়তী আয়ের আকর্ষণীয় একটি দিক।
১৫. পুরাতন পণ্য কেনা বেচা (Facebook Marketplace):
বিক্রয় ডটকম (Bikroy.com) বা ক্লাসিক মার্কেটপ্লেস তো আমরা সকলেই জানি। আপনি চাইলে ফেসবুকের একটা পেজ বা গ্রুপ সিষ্টেম ব্যবহার করেও কিন্ত আপনার জেলা বা শহর ভিত্তিক একটি ক্লাসিক সার্ভিস ভিত্তিক পুরাতন মালামাল ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন।
১৬. ড্রপশিপিং বিজনেস (Dropshipping):
ড্রপশিপিং (Dropshipping Business) একটা দারুন বিজনেস ফর্মূলা। বিশেষ করে যার কাছে নিজের কোন প্রডাক্ট বা পুজিঁ নেই। নিজের কোনো পণ্য না থাকলেও আপনি অন্যের পণ্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রমোশন করে কাস্টমার থেকে অর্ডার নিয়ে সরাসরি কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। মাঝখান থেকে আপনি একটি নির্দিষ্ট লভ্যাংশ বা প্রফিট পাবেন। ড্রপশিপিং এর অনেকগুলি ক্যাটেগরী আছে আপনি একটু ইউটিউবে সাচ করলে অনেক রকম ভিডিও এবং আইডিয়া পেয়ে যাবেন।
১৭. ইভেন্ট প্রমোশন (Facebook Event):
আপনার যদি ইভেন্ট বিষয়ে ধারনা বা অভিজ্ঞতা থাকে তবে পেসবুকের মাধ্যমেও ভাল টাকা ইনকাম করে নেওয়া সম্ভব। বিভিন্ন কনসার্ট এর আয়োজন, মেলা বা সেমিনারের প্রচারণার দায়িত্ব বা টিকেট বিতরন আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয় করতে পারেন। ইভেন্ট এর উপড় ফেসবুক কোম্পানী সম্পূর্ণ আলাদাকরে একটি ফিচার ই যুক্ত করে রাখছে ইভেন্ট ম্যানেজ করার জন্য। কাজ জানলে ভাই ফেসবুকে কাজের অভাব নাই।
১৮. সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সিং (Social Influencer):
ফেসবুকে আপনি যদি একজন একটিভ ইউজার হয়ে থাকেন তবে চাইলে আপনি ফেসবুক থেকে অনেকভাবেই টাকা ইনকাম করতে পারেন। সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লয়েন্সার হয়েও ইনকাম করা সম্ভব। আপনার লাইফস্টাইল বা ট্রাভেল নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করলেন বা পোস্ট শেয়ার দিলেন। জনপ্রিয়তা অর্জন করতে করতে একদিন কোন ব্রান্ড বা কেম্পানীর বিশেষ প্রচারক বা প্রমোটার হয়ে যেতে পারলেও আপনার ইনকাম শুরু।
১৯. লোকাল টু ডিজিটাল (Local to Digital):
আপনার এলাকায় ছোট ছোট দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। তারা হয়ত অনলাইন বোঝে না কিন্ত তাদের কাছে এমন প্রডাক্ট বা সার্ভিস আছে যা অনলাইনে দিলে সেল হতে পারে। ব্যস এবার আপনার পালা, তাদের সাথে চুক্তি করে অথবা নিজে কোন প্লান বানিয়ে তাদের প্রডাক্টগুলি অনলাইন করে দিন। প্রডাক্টগুলি আপনার হয়ে বা তাদের হয়ে বেচা বিক্রি শুরু করে দিন। এই লোকাল টু ডিজিটাল সার্ভিসে দুদিক থেকেই আপনার ইনকাম হতে থাকবে।
২০. পেজ কেনা-বেচা (Page Flipping):
এমন অনেক ফেসবুকের স্মার্ট ব্যবহারকারী আছেন যারা প্রথমে অনেকগুলি পেজ বা গ্রুপ তৈরী করেন। এরপর সময় নিয়ে আস্তে আস্তে কাজ করতে করতে এক সময় সেখানে অনেক পরিমানে ফ্যান ফলোয়ারস বা Facebook Page Likes যুক্ত করে ফেলেন। এরপর সেই পেজ বা গ্রুপ অন্যকোন লোকের কাছে বিক্রি করে দেন। যে কিনেছে তারও প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটা পেজ বা গ্রুপের দরকার থাকে অপরদিকে সেলারেরও সেল করা দরকার। শুধু একটু চেস্টা আর ফ্রি মাথা খাটানোর বিনিময়ে এভাবেও ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম করা যায়।
সবশেষে আপনাদেরকে যেই কথা টা বলবো, ফেসবুক একটি সম্পূর্ণ ফ্রি প্ল্যাটফর্ম। সিমাহীন আকাশ এর মত এর বিশালতা। অনেক ভাবেই আপনি এই সোস্যাল প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে অনেক টাকা অনেক উপায়ে ইনকাম করে নিতে পারেন। আপনিও যদি ফেসবুক থেকে ইনকাম করার স্বপ্ন দেখে থাকেন তবে আপনার জন্য প্রাথমি কয়েকটি উপদেশ রাখবো:
- বিশ্বাস ও মনস্থিরতা: ফেসবুক থেকে ইনকাম এটা এখন স্বপ্ন না বাস্তবতা। সবাই পারলে আপনিও পারবেন। এই বিশ্বাস নিয়ে কাজে লেগে পড়েন।
- ধৈর্য: রাতারাতি ইনকাম শুরু হবে না, আপনাকে লক্ষ নিয়ে ধৈর্য্য ধরে একটু একটু এগিয়ে যেতে হবে।
- নিয়মিত কাজ করা: নিয়মিত কাজ করবেন। প্রতিদিন অন্তত একটি পোস্ট বা ভিডিও দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বন্ধু বান্ধব যুক্ত করবেন এবং যতটা পারেন আপনার উপস্থিতী রাখবেন।
- অরিজিনাল কন্টেন্ট: অন্যের জিনিস কপি করা বাদ দিয়ে নিজের জিনিস তৈরী করবেন এবং পোস্ট করবেন।
অনলাইন থেকে আয় করা বিষয়ে আমাদের ব্লগে আরও একাধিক পোষ্ট রয়েছে। নিচের লিংকগুলি চেক করতে পারেন:
- আপনি যদি সম্পূর্ণ ফ্রি তে লাখ টাকার উপড়ে ইনকাম করতে চান তবে Top 12 High Potential Airdrops and Mining Projects in 2026 পোষ্টটি পড়ে দেখুন।
- মাত্র ১০০০ লিংক ক্লিকে ৩০ ডলারের উপড়ে ইনকাম করতে চাইলে Best Earning Site 2026 | Earn $30 for 1000 Views পোস্টটি চেক করুন।
এই পোস্টটি অনেক সময় নিয়ে আপনাদের জন্য তৈরী করা। ভাল লাগলে অবশ্যই একটা লাইক ও কমেন্ট করে দিবেন। ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।




জাঝাকাল্লাহু খাইর।