১০ টির বেশী সিম থাকায় কাজের সিমটি বন্ধ হয়ে গেছে? এদিক সেদিক সময় নষ্ট না করে আসল সমাধান জেনে নিন |
মোবাইল সিম কার্ড বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত কাজ, অফিস বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য আমাদের অনেকেরই একাধিক সিম প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) নিরাপত্তার স্বার্থে একটি এনআইডি (NID) বিপরীতে সিমের সংখ্যা সীমিত করার নতুন নিয়মটি কার্যকর করে দিয়েছে। নতুন নিয়মটি চালু হবার আগেই আমরা 5 SIM Limit per NID BTRC NEW Rule পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে সতর্ক করেছিলাম। যাহোক, এই নতুন নিয়মের ফলে যাদের ১০ টির বেশী অতিরিক্ত সিম ছিলো তাদের অনেকেরই বাড়তি সিমগুলি একে একে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত সিমগুলির মধ্যে অনেকের প্রয়োজনীয় নাম্বারটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আজকের বাংলা ব্লগ (Bangla Blog) পোষ্টে আমরা সেই বিষয়ের উপড় আলোচনা ও সমাধান জেনে নিবো।
বাংলাদেশে সর্বমোট সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিটিআরসির নতুন নির্দেশনা হচ্ছে এখন থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার কার্ড দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখতে পারবেন। ইতিপূর্বে এই সীমা ১৫টি থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ১০টিতে আনা হয়েছে। এবং ফাইনালি এটিকে কমিয়ে ৫ টি পর্যন্ত নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের নামে ১০ টির বেশি সিম নিবন্ধিত আছে, বিটিআরসি পর্যায়ক্রমে সেই অতিরিক্ত সিমগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। তাই হঠাৎ করে আপনি হয়ত দেখতে পারেন যে আপনার সিমে আর নেট আসছে না। বুঝতে হবে ‘ডাল মে কুছ কালা হে’। আপনার সিমটি অফিশিয়ালি বন্ধ করে দেওয়া হলো কিনা প্রথমেই নিচের নিয়মটি ফলো করে নিশ্চিত হয়ে নিবেন:
প্রথমেই সিম এর সংখ্যা যাচাই করবেন: সিম সংখ্যা চেক করার বেশ কয়েকটি পদ্ধতী আছে এ বিষয়ে আগের পোস্টেও আলোচনা করা হয়েছিলো তবু আবার বলছি: আপনার ফোনের ডায়াল প্যাড থেকে *16001# নাম্বারে ডায়াল করে পরবর্তী নির্দেশনায় আপনার এনআইডির শেষ ৪টি সংখ্যা দিয়ে দেখে নিতে পারবেন ঐ মুহুর্তে আপনার নামে মোট কয়টি সিম রেজিস্টার্ড আছে। যদি দেখেন লিষ্টে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমটি নেই তাহলে তো বিষয়টি পরিস্কার। আর যদি দেখেন বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমটি লিস্টে দেখাচ্ছে সেক্ষেত্রে বুঝে নিবেন আপনার সিম কার্ড এ অন্যকোন সমস্যা হয়েছে অথবা ফোনের সিম স্লট বা নেটওার্ক জনিত সমস্যা হয়েছে।
যদি সিমটি অফিশিয়ালি বন্ধ হয়ে থাকে এবং সিমটি আপনার প্রয়োজনীয়, সেক্ষেত্রে কি করবেন? সিম নাম্বারটি ফিরে পেতে এবারে নিচের পদ্ধতী অনুসরণ করুন:
- শুরুতেই উপড়ের নিয়মে আপনার সিমের তালিকাটি চেক করবেন। দেখবেন কোন সিমটি আপনার ব্যবহার না করলেও চলবে। অতপর উল্লেখিত সিম কোম্পানীর নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার অফিশে গিয়ে সেই সিমটি বন্ধ করে দিয়ে সিম সংখ্যা কমিয়ে ১০ এর নিচে নিয়ে আসবেন।
- যদি মনে হয় যে না সবগুলি সিম ই আপনার দরকারী। কোনটিই বন্ধ করা বা রেজিষ্ট্রেশন ক্যানসেল করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আপনার লিস্ট থেকে কয়েকটি সিমকে ফ্যামিলির কোন মেম্বারকে ট্রান্সফার করে দিন। অর্থাৎ যেটিকে মালিকানা পরিবর্তন বলে। সিম কার্ডের মালিকানা পরিবর্তন এর জন্য বড় কাস্টমার কেয়ারে না গেলেও হবে। আপনার নিকটস্থ ফোন বা সিমের দোকান থেকেও কাজটি করেতে পারবেন। তবে মালিকানা পরিবর্তনের সময় দুজনকেই আইডিকার্ডসহ উপস্থিত থাকতে হবে।
উপড়ের দুইটি নিয়মের যে কোন পদ্ধতীতেই হোক আপনার সিম এর সংখ্যা ১০ টির নিচে নিয়ে আসবেন। এরপরের ধাপটি হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমটি পুনরায় আপনার নামে সচল হবার জন্য পুনরায় রেজিস্টার রিকোয়েস্ট (Blocked Sim Re Register Request) সাবমিট করা। এই কাজটি করার জন্য আপনাকে অবশ্যই অফিশিয়াল কাষ্টমার কেয়ার বা হেল্প সেন্টার এ যেতে হবে। সাথে অবশ্যই মনে করে যেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি নিবেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
- যে আইডি কার্ডটি দিয়ে সিমটি রেজিষ্ট্রেশন করা ছিলো সেই কার্ডটি এবং তার একটা ফটোকপি সাথে করে নিয়ে যাবেন। ফটোকপিটি অফিশিয়ালি আপনার রিকোয়েস্টের সাথে রেখে দেওয়া হবে।
- বন্ধ সিম কার্ডটি সাথে করে নিয়ে যাবেন। সিম কার্ড সাথে থাকা বাধ্যতামূলক নয় তবে কিছু কাষ্টমার কেয়ারে ছ্যাচড়া কিছু সার্ভিসম্যান থাকে তারা চেয়ে বসতে পারে তাই আগেই প্রস্তত থাকবেন।
- আপনার অন্য একটি সচল নাম্বার যাতে তারা পরবর্তী ধাপে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
- রিকোয়েস্ট সাবমিট হবার ১৫ দিনের মধ্যে আপনার দ্বিতীয় সচল কন্টাক্ট নাম্বারে অফিশিয়াল হেল্প লাইন থেকে যোগাযোগ করা হবে ভেরিফিকশনের জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে পুনরায় সিমটি ব্যবহারের অনুমতী পাবেন।
- যদি ১৫ দিনের মধ্যে অফিশিয়াল কল না আসে সেক্ষেত্রে কস্ট করে আবারও একবার নিকটস্থ কাষ্টমার কেয়ারে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোজ নিতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা: বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ হওয়া সিমটি দীর্ঘ সময় ইন একটিভ থাকলে কিছু দিন পর তা বিক্রি করার জন্য বাজারে ছেড়ে দিতে পারে। সেই অবস্থায় যদি অন্যকেও সিমটি কিনে নেয় তবে আপনি আরও সমস্যায় পড়ে যাবেন। তাই আপনার প্রয়োজনীয় নম্বরটি বন্ধ হওয়া মাত্রই দেরি না করে দ্রুত ফেরত পাবার ব্যবস্থা নিবেন।
বিশেষ টিপস: ফোন কোম্পানীগুলি ফাইনাল টার্গেট সিম সংখ্যা ৫ টিতে নিয়ে আসা। তাই আপাতত সিম সংখ্যা ১০ টিতে রাখলেও চেস্টা করবেন কমিয়ে ৫টিতে নিয়ে আসার। যাতে ভবিশ্যত নিয়মের ক্ষেত্রেও আপনি ঝামেলামূক্ত থাকতে পারেন।
নিরাপদ টেলিকম সেবা নিশ্চিত করতেই সরকার এই সিম লিমিট নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই বাড়তি ঝামেলা এড়াতে এখনই আপনার নামে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা চেক করে নিন এবং অপ্রয়োজনীয় সিমগুলো বন্ধ করে দিন। আজকের পোষ্টটি আপনার উপকারে আসলে পোষ্টটিতে একটা লাইক ও কমেন্ট করবেন এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করবেন।



