জ্বলছে ইরান: ২০২৬ সালের গণআন্দোলন কি বর্তমান শাসনের অবসান ঘটাবে?
তেহরানের রাজপথে বারুদের গন্ধ (Iran Breaking News): ২০২৬ সালের শুরুটা ইরানের জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। ২০২৫ শেষ গল্পটা কিন্ত বেশ ভালই খেলেছিলো ইরান History of Iran Revolution । কারণ সেই খেলাটা ছিলো দেশের বাইরের শত্রুদের সাথে। আর আজকের এই খেলাটা ঘরের মধ্যে। ছড়িয়ে পড়েছে ঘরোয়া আন্দোলন, তেহরান থেকে শুরু করে মাশহাদ, তাবরিজ এবং ইসফাহান ইরানের প্রতিটি শহর এখন স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমানো মনের রাগ ও ক্ষোভ থেকেই নাকি এই বিদ্রোহ। দেখা যাচ্ছে যে ভিতরকার এক শ্রেণীর মানুষ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে।
কেন ২০২৬ সালে এসে ইরানের মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছে? এটি কি কেবলই একটি বিক্ষোভ, নাকি এক নতুন বিপ্লবের পদধ্বনি? নাকি অন্যকোন দেশের নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাপিয়ে দেওয়া গভীর ষড়যন্ত্র? আজকের ব্লগ পোষ্টে আমরা ইরানের এই অস্থিরতার নেপথ্যের কারণগুলো নিয়ে আলোজনা রাখবো।
Iran Protests 2026: ইরানের এই আন্দোলনের প্রধান জ্বালানি হলো দেশটির ভেঙে পড়া অর্থনীতি। বছরের পর বছর ধরে চলা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতির কারণে ইরানি রিয়ালের মান এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশচুম্বী, মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। যখন একটি পরিবারের জন্য দুবেলা খাবার জোটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন মানুষের মনে আর কোনো ভয় থাকে না। ইরানের সাধারণ মানুষ এখন মনে করছে, ঘরে বসে না খেয়ে মরার চেয়ে রাজপথে অধিকারের জন্য লড়াই করে মরা অনেক বেশি সম্মানের।
শুরুতে দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবি থাকলেও আন্দোলনটি খুব দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন কেবল অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগের দাবি এখন রাজপথের সাধারণ স্লোগানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায়, তারা এখন আর ধর্মীয় কঠোরতা ও একনায়কতন্ত্রের বেড়াজালে বন্দি থাকতে রাজি নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ বুক চিতিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি হচ্ছে।
ট্রাম্প বনাম ইরান: বিশ্ব রাজনীতির নতুন মোড়?
ইরানের এই অভ্যন্তরীণ সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আমেরিকার কঠোর অবস্থান। Trump Iran News: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছেন এবং ইরান সরকারকে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের সাফ বিবৃতি দিয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের সহিংসতা চালানো হলে আমেরিকা তখন চুপ করে থাকবে না। ওয়াশিংটনের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ইরানের ভিতরকার আগুনে ঘি ঢালার মত হয়েছে।
Iran Protests: ইতিহাস সাক্ষী, কোনো শক্তিই অনন্তকাল দমে থাকে না। ১৯৭৯ সালে ইরান যে ইসলামি বিপ্লব দেখেছিল, ২০২৬ সালে এসে দেশটি হয়তো তার উল্টো কোনো বিপ্লবের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। তবে এই আন্দোলন কি শেষ পর্যন্ত সফল হবে, নাকি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত, ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যে লড়াই শুরু করেছে, তা বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
World Politics: ইরান সরকার সহ অনেক ইসালামিক গবেষক দাবি করছে যে এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের নয়, বরং এটি আমেরিকা ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র। দেশ ধ্বংশের আগে ঘরের মানুষকে ঘরের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার ঘৃন্য রাজনীতি তাদের কাছে নুতন নয়। তাদের দাবিটির সত্যতার পেছনে যথাযথ কারণ আছে বলেও অনেকেই মনে করছেন। কারণ লিবিয়ার গাদ্দাফী চিত্র তার প্রমান হিসাবে এখনও বিশ্বের বুকে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এরকম কিছু আন্দোলনের সাহায্যেই লিবিয়ার সর্বশেষ সর্বনাশটা ঘটানো হয়েছিলো।
ইরানের এই অন্দোলন কি আসলেই গন আন্দোলন নাকি পশ্চিমাদের ষরযন্ত্র? আপনার মতামত কমেন্টে জানাবেন।
HistoryBD.com আন্তর্জাতিক বিষয়ে আরও দেখুন: ভেনেজুয়েলার ৬ লাখ বিটকয়েন আমেরিকার দখলে কি ঘটতে চলেছে পরবর্তী ক্রিপ্টো মার্কেটে – জানতে পড়ুন US Seizes 600,000 Bitcoins from Venezuela? । ভেনিজুয়েলা ও আমেরিকার মধ্যকার ঝামেলায় বিশ্ববাজারে কেমন প্রভাব পড়তে পারে জানতে পড়ুন US-Venezuela WAR Impact on the Crypto Market পোস্টটি।



